দারুণ আবিষ্কার বারাণসীতে। সেখানকার শাহানশপুরে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ভেজিটেবল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে গবেষণার পরে এক অদ্ভূত আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে একই গাছে হচ্ছে দুই রকমের সবজি। এই পদ্ধতিতে একই গাছে ফলেছে আলু, বেগুন টমেটো।
কীভাবে করা হয় এই অসাধ্য সাধন? জানা গিয়েছে, গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো গাছ কেটে ফেলা হয় এরপর ওই গাছেই বেগুনের চারা পোঁতা হয়। ফলে ওই একই গাছে ফলে টমেটো ও বেগুন।
ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বিজ্ঞানী ডঃ আনন্দ বাহাদুর সিং জানিয়েছেন, এই ধরনের বিশেষ গাছপালা ২৪ থেকে ২৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি আর্দ্রতায় খুব সহজে নার্সারিতেই তৈরি করা যায়।
বাহাদুর সিং জানিয়েছেন, গ্রাফটিংয়ের ১৫-২০ দিন পরে এটিকে জমিতে পোঁতা হয়। সঠিক পরিমাণে সার, জল এবং ছাঁটাই করা দরকার। গাছ বেঁচে গেলে ফল ধরবে একই গাছে তাও দুরকমের। কিন্তু ফল হবে কমকরে ৬০ থেকে ৭০ দিন পরে।
২০১৩-১৪ সালে গ্রাফটিংয়ের ব্যবহার ব্যাপক ভাবে শুরু হয়েছিল। এতে ব্যাপক উপকার হয় কৃষকদের। বিশেষত যেখানে বর্ষায় প্রচুর পরিমাণে জল থাকে সেখানকার কৃষকেরা এর ফলে লাভবান হয়। প্রাথমিকভাবে শহরবাসীর জন্য এই গাছগুলি তৈরি করা হচ্ছে। এই গাছগুলিতে শহরের মানুষেরা দু ধরনের সবজি ফলাতে পারবেন। ফলে যাদের বাড়িতে জায়গা কম, তাঁরাও অনেক রকম সবজি ফলাতে পারবেন।
যেসব বাড়ির ছাদে বাগান আছে। তাঁদের ক্ষেত্রে এই গ্রাফটিংয়ের পদ্ধতি বিশেষ কার্যকর। একই গাছে টমেটো এবং বেগুন উৎপাদনের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্য আকর্ষণীয় বলেও গণ্য হচ্ছে।
আপাতত একটি গাছে দুরকম ফরল উৎপন্ন করা গেলেও বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, তাঁদের লক্ষ্য, একটাই গাছে আলু, টমেটো এবং বেগুন উৎপন্ন করা। বিজ্ঞানীদের আশা আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যে সে কাজ তাঁরা করতে পারবেন